আজকে যে সরকার, কালকে তো সে-ই বিরোধী দল

আমরা একটা খুবই অস্থির সময় পার করছি। আমি খুব অবাক হই যখন দেখি কোটি কোটি মানুষ মাথার খুলির ভেতর একটা সম্পূর্ণ অব্যবহৃত মগজ নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। দুটো চোখ নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে যা দিয়ে দেখেও তারা দেখতে পায় না। মানুষ হিসেবে আমরা আসলে ঠিক কোন পর্যায়ের আমি বুঝে উঠতে পারি না। বেশিরভাগ সময়ই আমার মনে হয় আমরা এখনো সেই প্রস্তরযুগের শিকারী মনোভাব থেকে নিজেদের মুক্ত করতে পারি নি। আজও আমরা শুধু দুবেলা খাবার পেলেই খুশি। অত্যাচার এর বিরুদ্ধে মুখ খোলা তো দূর, আমরা যে অত্যাচারিত, নিপীড়িত এবং নির্যাতিত সেটা বোঝার ক্ষমতাই আমরা হারিয়ে ফেলেছি।

আমরা ক্ষমতার লড়াই লড়ছি। প্রতিদিন রক্তের বন্যায় ভেসে যাচ্ছে রাজপথ, বাজার, মাঠ। বোমা হামলা, গুলি করে হত্যা, এসব এখন প্রতিদিনের ঘটনা। যেন মনে হয় সকালে ঘুম থেকে উঠে মুখ হাত ধোয়ার মত একটা বিষয়। আমরা কেউ অবশ্য এতে কিছু মনে করছি না। আমরা শুধু এই ভেবে সান্তনা দিচ্ছি এসব রাজনৈতিক কর্মকান্ড। আমরা সাধারণ লোক এতে নাক না গলানোই ভালো। কিন্তু আমরা ভুলে যাচ্ছি, রাজপথ আমার মত সাধারণ লোকের রক্তেই ভিজে আছে। যার যায় সে বোঝে। আমাদের যায়নি বলে আমরা বুঝি না। কিন্তু যেদিন বুঝব, সেদিন কি যা গেল তা ফিরে পাব?

বিরোধী দল যাই করুক, সরকার কিছুই করবে না,  কারণ আজকে যে সরকার, কালকে তো সে-ই বিরোধী দল।

Advertisements

হজ বিষয়ক কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস

হজ ফ্লাইট শুরু হয়ে গিয়েছে। আমার পরিচতজনের মধ্যে এবারও অনেকেই হজ করবেন ইনশাল্লাহ। কেউ কেউ এরই মধ্যে চলে গিয়েছেন, আর কেউ কেউ যাবেন। আপনাদের সবার জন্য হজ বিষয়ক কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস দিচ্ছি।

১। সারা দুনিয়া থেকে লক্ষ লক্ষ হাজী সাহেবগণ মক্কা মদিনায় যাবেন। তাঁদের কারো কাশি থাকবে, কারো সর্দি থাকবে, কারো থাকবে জর  ঠান্ডা ইত্যাদি। এই ধরনের অসুখ গুলো খুব সহজে ছড়ায়। সাধারণত হাতের ছোয়ায় ও বাতাসের মাধ্যমে এদের জীবানু ছড়িয়ে থাকে। তাই খুব সাবধান থাকবেন। কারণ ওখানে একবার ঠান্ডা লেগে গেলে সহজে সারতে চায় না।
ক) ঠান্ডা পানি বা ঠান্ডা জুস খাবেন না। জমজমের পানি যেসব পাত্রে রাখা থাকে সেগুলোর কয়েকটি তে  “নট কোল্ড” লেখা থাকে। ওই পাত্রগুলো থেকে জমজমের পানি পান করবেন।
খ) সাথে হ্যান্ড সানিটাইজার রাখুন। ঢাকার যেকোনো সুপার সপ এ পাওয়া যায়। বাইরে থাকলে কিছু খাওয়ার পূর্বে হাত ধুয়ে নিন। না পারলে অন্তত হ্যান্ড সানিটাইজার ব্যাবহার করুন।

২। হজ একটি অতন্ত পরিশ্রমসাধ্য ইবাদত। প্রচুর পানি পান করবেন। প্রচুর হাটাহাটি করতে হবে বলে যথেষ্ট ক্ষুধাও পেতে পারে। সাথে সবসময় কয়েকটি খেজুর রাখুন। খেজুর একটি চমত্কার শক্তিবর্ধক ফল। দুগ্ধজাত খাবারে অসুবিধে না থাকলে প্রচুর “লাবান” খেতে পারেন। লাবান একটি পানীয়, খেতে অনেকটা আমাদের দেশের মাঠার মত। হজের মূল দিন গুলোতে অনেকেই বাথরুমের ভয়ে খাবার কম খান। মনে রাখবেন খাবার না খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়লে আপনার হজের অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ অসম্পূর্ণ থেকে যেতে পারে। তাই বেশি করে প্রোটিন জাতীয় খাবার খাবেন এবং আঁশ জাতীয় খাবার কম খাবন। এতে আপনার শরীরে শক্তি থাকবে, তবে বাথরুম এর প্রয়োজন কম হবে।

৩। আপনার পাসপোর্ট জেদ্দা বিমান বন্দর থেকে আপনার মুয়াল্লিম রেখে দেবেন, এবং যেদিন আপনি ফিরবেন, সেদিন জেদ্দা বিমান বন্দরেই আপনার পাসপোর্ট আপনাকে ফিরিয়ে দেআ হবে। দুশ্চিন্তার কোন কারণ নেই।

৪। আপনাকে একটি আই ডি কার্ড দেয়া হবে। এটি দয়া করে গলা থেকে খুলবেন না। কারণ মনে রাখবেন, হায়াত মউত আল্লাহর হাতে। আপনার যদি পথেঘাটে কোথাও মৃত্যু হয়, বা অসুস্থ হয়ে পরেন, কিংবা রারিয়ে যান, তাহলে এই আই ডি কার্ড ছাড়া আপনাকে, কিংবা আপনার লাশকে জায়গামত পৌছে দেওয়া অসম্ভব। এবং, জি, বাথরুমে গেলেও এই কার্ড গলায় রাখবেন। কারণ ওখানে আপনার হোটেল কিংবা বাসা ছাড়া অন্য যেখানেই যাবেন, বাথরুম মানেই শতশত টয়লেট কেবিন এক লাইনে।

৫। ওখানে বাতাসের আর্দ্রতা কম, তাই পা ফাটে বেশি। রাতে ঘুমাতে যাবার আগে তাই পায়ে ভালোভাবে ময়েশ্চারাইজিং ক্রিম মাখিয়ে নেবেন। মনে রাখবেন: পা গেল, তো হজ ও অর্ধেক গেল।

আশা করি টিপস গুলো কাজে লাগবে। এবং আশা করি আমাদের সবাইকে আপনার দোয়ায় রাখবেন।

হজ্জ এর প্রস্তুতি ৪: যাত্রা শুরুর পূর্বে

এই পর্বে আমি বলার চেষ্টা করব হজ্জ যাত্রা শুরুর পূর্বে আপনাকে কি কি করতে হবে।

১। প্রথম কাজ হলো একটি ভালো এজেন্সি খুঁজে বের করা। কিভাবে বুঝবেন কোন এজেন্সি ভালো?
২। টাকা, পাসপোর্ট, এবং ম্যানিনযাইটিসের টিকার সনদ জোগাড় করুন। কিভাবে করবেন?
৩। প্রয়োজনীয় কেনাকাটা সেরে নিন। কি কি কিনতে হবে?
৪। লাগেজ গুছিয়ে ফেলুন। কি কি সাথে নেবেন?
৫। প্রয়োজনীয় দোআ এবং সুরা সুরা গুলো শিখে নিন। কি কি শিখতে হবে?
৬। ইহরাম এর পোশাক পড়া শিখে নিন। কিভাবে পড়তে হয়?
৭। অর্থনৈতিক লেনদেন শেষ করে নিন। কি কি লেনদেন এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত?
পরবর্তী পর্ব গুলোতে চেষ্টা করব উপরের প্রশ্নের ধারাবাহিক জবাব দিতে। ইন-শা-আল্লাহ।

হাজ্জ এর প্রস্তুতি: ৩ – কে হাজ্জ করবেন?

নারী পুরুষ যে কেউ হাজ্জ করতে পারেন। তবে হজ ফরজ হবার কয়েকটি শর্ত রয়েছে। যাদের ওপর হাজ্জ ফরজ হয়নি, তারা হাজ্জ এর জন্য বেশি তাড়াহুড়া না করাই ভালো।

 

তাহলে আসুন জেনে নেই হাজ্জ ফরজ হবার শর্ত কি কি 

 
১। মুসলিম হতে হবে 
২। বালেগ হতে হবে
৩। হাজ্জ সম্পাদন করার মত এবং হাজ্জ জন্য যতদিন পরিবার থেকে দুরে থাকবেন, ততদিন তাদের সংসার চলার মত যথেষ্ট টাকা থাকতে হবে।
৪। শারীরিক ভাবে হাজ্জ সম্পাদন করার মত সুস্থ থাকতে হবে
৫। মানসিক সুস্থতা থাকতে হবে।
৬। শুধু মহিলাদের জন্য: সাথে যাবার মত একজন মাহরাম পুরুষ থাকতে হবে।
৬ নম্বর শর্তে অনেকেই প্রশ্ন করে থাকেন এমন “আমার এমন কোনো মাহরাম পুরুষ নেই যার ওপর হাজ্জ ফরজ হয়েছে, বা যার হাজ্জ এ যাবার মত অর্থ আছে। আমি কিভাবে হাজ্জ এ যাব?” এক্ষেত্রে যদি এমন হয় যে, ওই মাহরাম পুরুষকে সাথে নেবার মত যথেষ্ট টাকা আপনার কাছে আছে, তাহলে আপনি নিজ খরচে তাঁকে নিয়ে যাবেন। আর যদি এমন হয় যে আপনার কাছে এমন টাকা আছে যা দিয়ে আপনার একার পক্ষে যাওয়া সম্ভব অথচ এমন কোনো মাহরাম নেই যিনি নিজের টাকায় হাজ্জে যাচ্ছেন, অথবা আপনার কাছেও এমন টাকা নেই যে আপনি কাউকে স্পন্সর করে নিয়ে যেতে পারছেন, তাহলে আপনার ক্ষেত্রে ৩ এবং ৬ নম্বর শর্ত পূরণ না হওয়ায় হাজ্জ ফরজ হয় নি।
মন্তব্যের ঘরে প্রশ্ন করতে পারেন। সাধ্যমত জবাব দেবার চেষ্টা করব ইন-শা-আল্লাহ।

হাজ্জ এর প্রস্তুতি: ২ – হাজ্জ কিভাবে করবেন?

অনেক বই আছে, অনেক জটিল ভাষায় অনেক বর্ণনা আছে। কিন্তু খুব অল্প কথায় জানতে চাইলে পুরো বিষয়টা কেমন যেন ঘোলাটে হয়ে যায়। তাই এবার চেষ্টা করব খুব সংক্ষেপে হজ এর পদ্ধতি বর্ণনা করতে।

১) প্রথমে জেনে নেই কয়েকটি জায়গার নাম। জেদ্দা, মক্কা, মিনা, আরাফাহ, মুজদালিফা, জামারাহ, এবং মদীনা।
২) এবার জেনে নেই কয়েকটি আমল এর নাম। ইহরাম, ওমরাহ, তাওয়াফ, সায়ী, উকুফ, রমি, হাদী।
৩) মক্কায়, মাসজিদুল হারামের ভিতরে অবস্থিত কয়েকটি জায়গার নাম ও জেনে নেওয়া প্রয়োজন। কাবা, জমজম, মাকামে ইব্রাহিম, হাজরে আসওয়াদ, রুকনে ইয়ামেনি, হাতিমে কাবা, সাফা, মারওয়া।
এবার আসুন জেনে নেই, কবে কবে কিভাবে কি হবে।
৮ জিলহজ্জ: ফজর এর সালাত এর পর মক্কা থেকে নতুন করে ইহরাম করে চলে যাবেন মিনা। ওখানে সবার জন্য এসি তাবুর ব্যাবস্থা আছে। আপনার এজেন্সি আপনাকে তাঁবু পর্যন্ত নিয়ে যাবে। এখানে আজ আর কোনো কাজ নেই। শুধু সালাত আদায় করুন ৫ ওয়াক্ত। ইবাদতে মশগুল থাকুন। গল্পগুজবে অংশ নেবেন না। বিশ্রাম করুন।

৯ জিলহজ্জ: মিনা থেকে ফজর সালাত আদায় করে চলে আসুন আরাফাতের ময়দানে। এখানে তাঁবু থাকবে আপনার এজেন্সির। তবে এসি তো দুরের কথা, মোবাইল চার্জ দেবারও কোনো ব্যাবস্থা থাকবে না। মসজিদে নামিরা থেকে খুতবা হবে যোহর এর সালাতের আগে। সাথে FM রেডিও থাকলে খুতবা শুনুন। না থাকলে বিশ্রাম করুন। যোহর এর আজান হলে যোহর এবং আসর এক সাথে ২ রাকাত ২ রাকাত করে আদায় করে নিন। মনে রাখবেন, আরাফাতে আসর এর কোনো আজান হবে না। এবং, যোহর আসর এক আজানে, ২ একমতে, ২ রাকাত ২ রাকাত করে আদায় করতে হবে। এরপর শুরু হলো উকুফে আরাফাত। সুর্য পুরোপুরি ডুবে  যাওয়া পর্যন্ত দোআ করতে থাকুন। আল্লাহর কাছে চাইতে থাকুন। যা ইচ্ছা তাই চান। নিজের জন্য, সবার জন্য ইচ্ছেমত চাইতে থাকুন। সুর্য পুরোপুরি ডুবে গেলে মুজদালিফার উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে যান। ভুলেও মাগরিব আরাফাতে পরবেন না। মুজদালিফায় পৌছে যত রাত ই হোক, মাগরিব ও এশা পড়ুন। এটাই নিয়ম। সালাত আদায় হয়ে গেলে ঘুমিয়ে পড়ুন।
১০ জিলহজ্জ : ফজর সালাত আদায় করে মুজাদালিফা থেকে চলে আসুন জামারায়। শুধু “জামারাতুল আকবার” অর্থাৎ বড় জামারায় পাথর নিক্ষেপ করে সোজা মক্কায় চলে আসুন। হাদী জবাই করুন। কিংবা কাউকে দায়িত্ব দেয়া থাকলে খবর নিন জবাই হয়েছে কিনা। জবাই হয়ে গেলে মাথা কামিয়ে ফেলুন। গোসল করে নতুন জামা পড়ে চলে আসুন মাসজিদুল হারামে। ফরজ তাওয়াফ করুন। তাওয়াফ শেষে মাকামে ইব্রাহিমের পিছনে যেকোনো জায়াগায় ২ রাকাত সালাত আদায় করুন। প্রথম রাকাতে সুরা কাফিরুন, পরের রাকাতে ইখলাস। এরপর পেটপুরে জমজম পান করুন। কিছুটা মাথায় দিন। (ভুলেও ঠান্ডা পানি ব্যাবহার করবেন না।  “Not Cold” লেখা কন্টেইনার থেকে পানি নিন।) এবার সাফা মারওয়া সায়ী করুন। ব্যাস আজকের কাজ শেষ। রাত ১২টা বাজার আগেই মিনায় তাঁবুতে ফিরে যান।
১১ ও ১২ জিলহজ্জ: মিনা থেকে যোহর এর পর জামারায় যান। তিন টি জামারাতেই একে একে পাথর নিক্ষেপ করুন। (পাথর এর সাইজ হতে হবে বুটের দানা বা সিম এর বিচির সমান, এর চেয়ে বড় পাথর নেবেন না।) ছোট, ও মেজ জামারায় পাথর নিক্ষেপ হলে কিবলা মুখী হয়ে আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করুন। মনে রাখবেন, বড় জামারায় পাথর নিক্ষেপ এর পর কোনো দোয়া নেই। বড় জামারায়, মানে শেষটিতে কঙ্কর নিক্ষেপ হয়ে গেলে ১১ তারিখ চলে আসুন মিনায়, তাঁবুতে, আর ১২ তারিখ চলে যান মক্কায়। ব্যাস হজ শেষ। অবশ্য মাগরিব এর আগে যদি মিনার সীমানা ত্যাগ করতে না পারেন তাহলে কিন্তু ১২ তারিখ রাতেও আপনাকে মিনার তাঁবুতে থেকে ১৩ তারিখ যোহর এর পরে আবার পাথর নিক্ষেপ করে মিনা ত্যাগ করতে হবে।
এই পর্বে এই পর্যন্তই। আরও জানতে হলে এখানে মন্তব্যের ঘরে প্রশ্ন করুন। জবাব দেবার চেষ্টা করব ইন-শা-আল্লাহ।